গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞান (প্রভাষক) — MCQ ও উত্তর
শিক্ষক নিয়োগ · । এই অধ্যায়ে মোট 533টি প্রশ্ন আছে। নিচে প্রথম 10টি প্রশ্ন ও সঠিক উত্তর দেওয়া হলো।
এই অধ্যায়ে সব প্রশ্নে অনুশীলন করুন
প্রাচীন সুমেরীয়রা ৩২০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে যে লিখন পদ্ধতি আবিষ্কার করেছিল, তার নাম কী?
- হায়ারোগ্লিফিক
- কিউনিফর্ম
- পিক্টোগ্রাফ
- অ্যালফাবেট
সঠিক উত্তর: কিউনিফর্ম
ব্যাখ্যা: সমাধান সঠিক উত্তর: Option B প্রাচীন সুমেরীয় সভ্যতায় ৩২০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে কিউনিফর্ম (Cuneiform) নামক লিখন পদ্ধতি আবিষ্কার করা হয়, যা মানব ইতিহাসের প্রথম লিখিত ভাষা হিসেবে স্বীকৃত।- এই পদ্ধতিতে পাথর বা নরম কাদামাটির ট্যাবলেটের ওপর বিভিন্ন প্যাটার্ন বা চিহ্নের মাধ্যমে তথ্য খোদাই করে রাখা হতো।- প্রথমদিকে এটি মূলত দৈনন্দিন কেনাকাটার হিসাব এবং জমির সীমানা বিরোধ নিষ্পত্তির মতো কাজে ব্যবহৃত হতো।- পরবর্তীতে ব্রোঞ্জ যুগে এই লিখন পদ্ধতি অন্যান্য রাজ্যেও প্রমিত ভাষা হিসেবে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রাচীনকালে কোন উপাদানটি সবচেয়ে হালকা ও সহজে বহনযোগ্য লিখন সামগ্রী হিসেবে প্রথম ব্যবহৃত হয়েছিল?
- প্যাপিরাস
- তালপাতা
- পার্চমেন্ট
- মাটির ফলক
সঠিক উত্তর: প্যাপিরাস
ব্যাখ্যা: সমাধান সঠিক উত্তর: Option A প্যাপিরাস হলো প্রাচীনকালে ব্যবহৃত প্রথম হালকা এবং সহজে বহনযোগ্য লিখন সামগ্রী । প্রাচীন মিশরীয়রা ২৯০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের দিকে এই উদ্ভিদজাত উপাদানকে চেপে লেখার উপযোগী পাতা তৈরি করেছিল । - প্রাচীন বিশ্বে, এমনকি গ্রিকদের কাছেও এটি লেখার প্রধান মাধ্যম হয়ে ওঠে । - প্যাপিরাস ভাঁজ করে আধুনিক বইয়ের মতো না রেখে গোল করে গুটিয়ে (স্ক্রোল) রাখা হতো । - মাটির ফলক বা পাথরের তুলনায় এটি অত্যন্ত হালকা হওয়ায় প্রাচীনকালে জ্ঞান ও তথ্য সংরক্ষণে এটি যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করে ।
প্রাচীন মিশরীয়রা কত খ্রিষ্টপূর্বাব্দের দিকে লেখার উপাদান হিসেবে প্যাপিরাস আবিষ্কার করে?
- ২৫০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে
- ৩২০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে
- ২৯০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে
- ২০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে
সঠিক উত্তর: ২৯০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে
ব্যাখ্যা: সমাধান সঠিক উত্তর: Option C - প্যাপিরাস হলো পৃথিবীর প্রথম হালকা এবং সহজে বহনযোগ্য লেখার উপাদান । - প্রাচীন মিশরীয়রা ২৯০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের দিকে প্যাপিরাস উদ্ভিদ থেকে চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে এই পাতা তৈরি করেছিল । - কাগজ আবিষ্কারের বহু আগে প্রাচীন বিশ্বে (বিশেষ করে প্রাচীন গ্রিস ও অন্যান্য রাজ্যে) লেখালেখি ও তথ্য সংরক্ষণের প্রধান মাধ্যম হিসেবে এটি ব্যবহৃত হতো । - প্যাপিরাস আবিষ্কারের ফলে মানুষের পক্ষে সহজে তথ্য লিখে রাখা এবং তা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বহন করা সহজতর হয়েছিল ।
প্রাচীন আসুরবনিপাল গ্রন্থাগার কোথায় অবস্থিত ছিল?
- নিনেভে
- মেমফিস
- ব্যাবিলন
- অ্যাথেন্স
সঠিক উত্তর: নিনেভে
ব্যাখ্যা: সমাধান সঠিক উত্তর: Option A প্রাচীন আসুরবনিপাল গ্রন্থাগার (৬৬৮-৬২৭ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ) মেসোপটেমিয়ার নিনেভে শহরে অবস্থিত ছিল ।- এটি খ্রিষ্টপূর্ব ৭ম শতাব্দীতে প্রতিষ্ঠিত প্রাচীন বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত গ্রন্থাগার ।- এই গ্রন্থাগারে হাজার হাজার কাদামাটির ট্যাবলেট বা ক্লে ট্যাবলেট সংরক্ষিত ছিল ।- প্রাচীন সভ্যতায় প্রশাসনিক, আইনগত, ধর্মীয় এবং সাহিত্যিক জ্ঞান সংরক্ষণ ও বিস্তারে এই গ্রন্থাগারটি তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রেখেছিল ।
বিশ্বের প্রথম গ্রন্থাগারের ধারণা কোন দেশে শুরু হয়েছিল?
- প্রাচীন গ্রিসে
- প্রাচীন চীনে
- প্রাচীন ভারতে
- প্রাচীন মিশরে
সঠিক উত্তর: প্রাচীন মিশরে
ব্যাখ্যা: সমাধান সঠিক উত্তর: Option D বিশ্বের প্রথম গ্রন্থাগারের ধারণা শুরু হয়েছিল প্রাচীন মিশরে । - প্রাচীন মিশরে উপাসনার পাশাপাশি তাত্ত্বিক আলোচনা ও জ্ঞান প্রসারের উদ্দেশ্যে পুরোহিতদের প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণের প্রয়োজন দেখা দেয় । - এই প্রয়োজনের তাগিদেই মূলত মিশরের একটি মন্দিরে বিশ্বের প্রথম লাইব্রেরি বা গ্রন্থাগারের সূচনা ঘটেছিল । - এর পরবর্তীতে মেসোপটেমিয়া, প্রাচীন গ্রিস, রোম এবং ভারতীয় উপমহাদেশের তক্ষশীলা ও নালন্দায় সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার গড়ে ওঠে ।
প্রাচীন ভারতের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার গড়ে উঠেছিল?
- তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয়
- নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়
- বিক্রমশীলা বিশ্ববিদ্যালয়
- সোমপুর মহাবিহার
সঠিক উত্তর: নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা: সমাধান সঠিক উত্তর: Option B প্রাচীন ভারতীয় উপমহাদেশে শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেছিল। - প্রাচীন যুগে ভারতীয় উপমহাদেশে যেসব গ্রন্থাগারের অস্তিত্ব ছিল, তার মধ্যে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য । - ৪২৭ থেকে ১১৯৩ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত এই গ্রন্থাগারটি তার বিশাল সংগ্রহ নিয়ে জ্ঞানপিপাসু মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করেছে । - উপমহাদেশের তক্ষশীলাতেও সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার গড়ে উঠলেও নালন্দার গ্রন্থাগারটি ছিল সবচেয়ে বেশি সমৃদ্ধ ও সুপরিচিত ।
প্রাচীনকালে পুঁথি সংরক্ষণের জন্য প্রধানত কোন উপাদানগুলো ব্যবহৃত হতো?
- কাগজ ও প্লাস্টিক
- রেশম কাপড় ও লোহা
- তালপাতা, গাছের বাকল, পশুর চামড়া, পাথর ও টেরাকোটা
- কেবল মাটির ফলক ও কাঠ
সঠিক উত্তর: তালপাতা, গাছের বাকল, পশুর চামড়া, পাথর ও টেরাকোটা
ব্যাখ্যা: সমাধান সঠিক উত্তর: Option C প্রাচীনকালে তথ্য লিখে রাখার জন্য কাগজ বা প্লাস্টিকের মতো আধুনিক উপাদান ছিল না ।তখন পুঁথি লেখার এবং সংরক্ষণের জন্য প্রাকৃতিকভাবে সহজলভ্য উপাদান যেমন তালপাতা, গাছের বাকল, পশুর চামড়া, পাথর ও টেরাকোটা (পোড়ামাটির ফলক) ব্যবহার করা হতো ।সাধারণত বৌদ্ধ বিহার, ধর্মগৃহ বা উপাসনালয়ে এই পুঁথিগুলো সংরক্ষণ করা হতো ।অতএব, প্রাচীনকালে পুঁথি সংরক্ষণের প্রধানতম উপাদানগুলো ছিল তালপাতা, গাছের বাকল, পশুর চামড়া, পাথর ও টেরাকোটা ।
১১১৬ খ্রিষ্টাব্দে সেলাই করা বই প্রথম কোন দেশে উদ্ভাবিত হয়?
- চীনে
- ইতালিতে
- ফ্রান্সে
- ভারতে
সঠিক উত্তর: চীনে
ব্যাখ্যা: সমাধান সঠিক উত্তর: Option A ১১১৬ খ্রিষ্টাব্দে চীনে সর্বপ্রথম সেলাই করা বই (Stitched books) উদ্ভাবিত হয় ।- এর মাধ্যমে তথ্য স্থানান্তর ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে মধ্যযুগের সূচনা ঘটে বলে ঐতিহাসিকরা মনে করেন ।- চীনের এই যুগান্তকারী উদ্ভাবন বইয়ের স্থায়িত্ব ও ব্যবহারযোগ্যতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করে এবং আধুনিক গ্রন্থ প্রকাশনা ও বাঁধাই শিল্পের ভিত্তি স্থাপন করে।
১৪০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে হাড়ের ওপর প্রাচীনতম লেখার নিদর্শন কোন দেশে পাওয়া যায়?
- ভারতে
- মিশরে
- চীনে
- গ্রিসে
সঠিক উত্তর: চীনে
ব্যাখ্যা: সমাধান সঠিক উত্তর: Option C চীনে আনুমানিক ১৪০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে হাড়ের ওপর প্রাচীনতম লেখার নিদর্শনটি পাওয়া যায় ।তথ্য স্থানান্তরের প্রাচীন ইতিহাস অনুযায়ী এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় ।এই প্রাচীন লিখন পদ্ধতির মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ হলো:- প্রাচীনতম এই লেখাটি মূলত হাড়ের ওপর লিখিত ছিল ।- এটি চীনে আবিষ্কৃত প্রাচীনতম লেখার নিদর্শন ।- এর মাধ্যমে প্রাচীনকালে তথ্য সংরক্ষণ ও স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল ।
মধ্যযুগে গ্রন্থাগারগুলো প্রধানত কোথায় গড়ে উঠেছিল?
- রাজপ্রাসাদে
- মঠ বা উপাসনালয়ে
- বিশ্ববিদ্যালয়ে
- পাবলিক স্কোয়ারে
সঠিক উত্তর: মঠ বা উপাসনালয়ে
ব্যাখ্যা: সমাধান সঠিক উত্তর: Option B মধ্যযুগে গ্রন্থাগারগুলো মূলত মঠ এবং উপাসনালয়কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল ।- এই সময়ে মঠ বা উপাসনালয়ের গ্রন্থাগারগুলো জ্ঞানচর্চা ও সংরক্ষণের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করত ।- সন্ন্যাসীরা প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ পাণ্ডুলিপিগুলো সযত্নে অনুলিপি করে এখানে সংরক্ষণ করতেন ।- যুগে যুগে গ্রন্থাগারগুলো এভাবেই ধর্মীয় উপাসনালয়কে ঘিরে তাদের ভিত্তি মজবুত করেছে ।- মূলত ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি প্রাচীন জ্ঞান-বিজ্ঞান টিকিয়ে রাখার জন্য মধ্যযুগে এই মঠগুলোই সবচেয়ে নিরাপদ স্থান ছিল ।