Subjective -বাংলা সাহিত্য (স্কুল পর্যায়) — MCQ ও উত্তর
এসএসসি প্রস্তুতি · । এই অধ্যায়ে মোট 425টি প্রশ্ন আছে। নিচে প্রথম 10টি প্রশ্ন ও সঠিক উত্তর দেওয়া হলো।
এই অধ্যায়ে সব প্রশ্নে অনুশীলন করুন
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'বাঙ্গালা ভাষা' প্রবন্ধ অনুসারে, পূর্বে বাঙ্গালা পুস্তকসমূহ প্রণয়ন মূলত কাদের হাতে ন্যস্ত ছিল?
- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতদের
- সংস্কৃত ব্যবসায়ীদের
- ইংরেজি শিক্ষিতদের
- সাধারণ লেখকদের
সঠিক উত্তর: সংস্কৃত ব্যবসায়ীদের
ব্যাখ্যা: সমাধান সঠিক উত্তর: Option B বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'বাঙ্গালা ভাষা' প্রবন্ধ অনুসারে, পূর্বে বাংলা গদ্যের সূচনাপর্বে পুস্তক প্রণয়ন মূলত সংস্কৃত ব্যবসায়ীদের হাতে ন্যস্ত ছিল ।তখনকার সংস্কৃত পণ্ডিতেরা মনে করতেন যে, সংস্কৃত না জানলে বাংলা গ্রন্থ লেখার অধিকার কারও নেই । তারা বাংলাকে সংস্কৃতের অনুগামী করে দুর্বোধ্য করে তুলেছিলেন । অন্যদিকে ইংরেজি শিক্ষিতরা বাংলা লেখাকে মর্যাদাহানিকর মনে করতেন । ফলে বাংলা লেখার ভার সম্পূর্ণভাবে ফোঁটা-কাটা ও অনুস্বারবাদী সংস্কৃত পণ্ডিত বা 'সংস্কৃত ব্যবসায়ীদের' একচেটিয়া মহলে পরিণত হয়েছিল ।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'বাঙ্গালা ভাষা' প্রবন্ধ অনুসারে, কার গ্রন্থের মাধ্যমে বাঙ্গালা ভাষার শ্রীবৃদ্ধির সূত্রপাত হয়?
- কালীপ্রসন্ন সিংহ
- রামমোহন রায়
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
- টেকচাঁদ ঠাকুর
সঠিক উত্তর: টেকচাঁদ ঠাকুর
ব্যাখ্যা: সমাধান সঠিক উত্তর: Option D বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'বাঙ্গালা ভাষা' প্রবন্ধ অনুসারে, টেকচাঁদ ঠাকুর ছদ্মনামে প্যারীচাঁদ মিত্রের রচিত 'আলালের ঘরের দুলাল' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা ভাষার শ্রীবৃদ্ধি ঘটে।তৎকালীন সময়ে বাংলা গদ্য ছিল অতিরিক্ত সংস্কৃত শব্দবহুল ও দুর্বোধ্য। টেকচাঁদ ঠাকুর প্রথম এই আড়ষ্টতা ভেঙে সাধারণ মানুষের মুখের সহজ-সরল ভাষাকে সাহিত্যের রূপ দেন। বঙ্কিমচন্দ্রের মতে, এই গ্রন্থ রচনার পর থেকেই বাংলা ভাষায় প্রাণের সঞ্চার হয় এবং এর প্রকৃত শ্রী ও সজীবতা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে।
রামগতি ন্যায়রত্ন তাঁর কোন গ্রন্থে 'আলালের ঘরের দুলাল' ও 'হুতোম প্যাঁচা' সম্পর্কে তাঁর অভিমত ব্যক্ত করেছিলেন?
- বাঙ্গালা ভাষার ইতিহাস
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ ও সাহিত্য
- বাঙ্গালা সাহিত্যবিষয়ক প্রস্তাব
- বাঙ্গালা সাহিত্যের রূপরেখা
সঠিক উত্তর: বাঙ্গালা সাহিত্যবিষয়ক প্রস্তাব
ব্যাখ্যা: সমাধান সঠিক উত্তর: Option C রামগতি ন্যায়রত্ন ১৮৭২ সালে প্রকাশিত তাঁর 'বাঙ্গালা সাহিত্যবিষয়ক প্রস্তাব' গ্রন্থে বাংলা গদ্য ও সাহিত্যের প্রথম নিয়মতান্ত্রিক ইতিহাস তুলে ধরেন।এই গ্রন্থে তিনি সমকালীন সাহিত্যধারা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে টেকচাঁদ ঠাকুরের (প্যারীচাঁদ মিত্র) বিখ্যাত উপন্যাস 'আলালের ঘরের দুলাল' এবং কালীপ্রসন্ন সিংহের সমাজচিত্র বিষয়ক নকশা 'হুতোম প্যাঁচা' সম্পর্কে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ সমালোচনা ও অভিমত ব্যক্ত করেছিলেন।- তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাস রচনায় 'প্রস্তাব' বা 'form' ব্যবহার করেন।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'বাঙ্গালা ভাষা' প্রবন্ধে সংস্কৃতবাদী সম্প্রদায়ের মুখপত্র হিসেবে কার নাম উল্লেখ করা হয়েছে?
- রামগতি ন্যায়রত্ন
- মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
- তারাশঙ্কর তর্করত্ন
সঠিক উত্তর: রামগতি ন্যায়রত্ন
ব্যাখ্যা: সমাধান সঠিক উত্তর: Option A বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'বাঙ্গালা ভাষা' প্রবন্ধে বাংলা গদ্যের ভাষারীতির আলোচনা করা হয়েছে। এখানে লেখক তৎকালীন সময়ের সংস্কৃতঘেঁষা ভাষারীতির সমর্থকদের চিহ্নিত করেছেন। প্রবন্ধে বঙ্কিমচন্দ্র সংস্কৃতবাদী সম্প্রদায়ের মুখপত্র হিসেবে রামগতি ন্যায়রত্ন-কে গ্রহণ করেছেন। রামগতি ন্যায়রত্ন তাঁর লেখায় সংস্কৃতবহুল কঠিন গদ্যের পক্ষে নিজের যুক্তি প্রকাশ করেছিলেন বলেই বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে এই সম্প্রদায়ের প্রধান প্রতিনিধি বা মুখপত্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
রামগতি ন্যায়রত্নের মতে, ভাষার বিশেষ ভঙ্গির কারণে কোন গ্রন্থসমূহ পিতা-পুত্রে একত্রে বসে অসংকুচিত মুখে পাঠ করা যায় না?
- বিষাদ-সিন্ধু ও রত্নবতী
- আলালের ঘরের দুলাল ও হুতোম প্যাঁচা
- সীতার বনবাস ও শকুন্তলা
- নীল দর্পণ ও জমিদার দর্পণ
সঠিক উত্তর: আলালের ঘরের দুলাল ও হুতোম প্যাঁচা
ব্যাখ্যা: সমাধান সঠিক উত্তর: Option B রামগতি ন্যায়রত্নের মতে, আলালের ঘরের দুলাল ও হুতোম প্যাঁচার ভাষার বিশেষ ভঙ্গির কারণে পিতা-পুত্রে একসঙ্গে বসে অসংকুচিত মুখে তা পাঠ করা যায় না। এই গ্রন্থগুলোতে ব্যবহৃত কথ্য ভাষার প্রকাশভঙ্গি এমন এক রূপ, যা গুরুজনদের সামনে উচ্চারণ করতে লজ্জাবোধ হয়। রামগতি মনে করতেন, বিষয়বস্তুর লজ্জাজনক দিক নয়, বরং ভাষার ভঙ্গির কারণেই পিতা-পুত্রের একত্রে বসে পড়ার অন্তরায় তৈরি হয়। তাই এই গ্রন্থগুলো বন্ধু বা স্ত্রীর সাথে পড়ে আনন্দ পাওয়া গেলেও, গুরুজনদের সামনে পড়ার মতো আদর্শ ভাষা এতে নেই।
বাবু শ্যামাচরণ গঙ্গোপাধ্যায় বাঙ্গালা ভাষার সংস্কার বিষয়ক উৎকৃষ্ট প্রবন্ধটি কোন পত্রিকায় প্রকাশ করেছিলেন?
- বঙ্গদর্শন
- সোমপ্রকাশ
- সমাচার দর্পণ
- ক্যালকাটা রিভিউ
সঠিক উত্তর: ক্যালকাটা রিভিউ
ব্যাখ্যা: সমাধান সঠিক উত্তর: Option D বাবু শ্যামাচরণ গঙ্গোপাধ্যায় বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও বানান সংস্কারের উপর একটি উৎকৃষ্ট প্রবন্ধ লিখেছিলেন।এই প্রবন্ধটি ১৮৭৭ সালে বিখ্যাত ক্যালকাটা রিভিউ (Calcutta Review) পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।প্রবন্ধটিতে তিনি বাংলা ভাষার সংস্কারে কিছু প্রস্তাব দেন, যেমন:- বাংলা বানানে অপ্রয়োজনীয় সংস্কৃত জটিলতা দূর করা।- প্রচলিত তদ্ভব ও সহজ বাংলা শব্দের ব্যবহার বাড়ানো।সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর বিখ্যাত 'বাঙ্গালা ভাষা' প্রবন্ধে শ্যামাচরণ বাবুর এই প্রবন্ধের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
শ্যামাচরণ গঙ্গোপাধ্যায় বাঙ্গালা ব্যাকরণের কোন বিষয়টি বাঙ্গালা ভাষায় ব্যবহারের তীব্র বিরোধী ছিলেন, যা বঙ্কিমচন্দ্রের মতে তাঁর 'চক্ষুঃশূল' ছিল?
- সন্ধি
- সমাস
- কারক
- প্রত্যয়
সঠিক উত্তর: সন্ধি
ব্যাখ্যা: সমাধান সঠিক উত্তর: Option A বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'বঙ্গালা ভাষা' প্রবন্ধে উনিশ শতকের বিশিষ্ট ভাষাতাত্ত্বিক শ্যামাচরণ গঙ্গোপাধ্যায়ের বাংলা ভাষা সংস্কারের প্রচেষ্টার কথা আলোচনা করা হয়েছে ।তিনি বাংলা ব্যাকরণে সংস্কৃতের অনুকরণে জোরপূর্বক নিয়ম চাপানোর ঘোর বিরোধী ছিলেন । বিশেষ করে, বাংলা ভাষায় সংস্কৃতের মতো জোর করে 'সন্ধি' ব্যবহারের বিষয়টি তাঁর অত্যন্ত অপছন্দ ছিল, যাকে বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর 'চক্ষুঃশূল' বলে অভিহিত করেছেন । তিনি মনে করতেন, বাংলা একটি স্বতন্ত্র ভাষা এবং এতে সংস্কৃত ব্যাকরণের জটিল নিয়ম চাপানোর কোনো প্রয়োজন নেই ।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতে, বাঙ্গালা ভাষা যদি কখনো অভাব পূরণের জন্য শব্দ ধার করতে চায়, তবে কার নিকট হতে ধার করা সর্বাপেক্ষা যুক্তিযুক্ত?
- ইংরেজি
- আরবি-ফারসি
- সংস্কৃত
- প্রাকৃত
সঠিক উত্তর: সংস্কৃত
ব্যাখ্যা: সমাধান সঠিক উত্তর: Option C বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতে, বাংলা তার অভাব পূরণে শব্দ ধার করতে চাইলে চিরকালের মহাজন সংস্কৃতের কাছেই তা করা যুক্তিযুক্ত ।কারণ:- বাংলার অস্থি, মজ্জা ও রক্ত মূলত সংস্কৃত দিয়েই গঠিত, তাই সংস্কৃত শব্দ বাংলার সাথে খুব সহজে মিশে যায় ।- সংস্কৃত শব্দভাণ্ডার অত্যন্ত সমৃদ্ধ, ফলে নতুন ভাব প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় শব্দ এখান থেকে সহজেই পাওয়া যায় ।- অন্য যেকোনো বিদেশি ভাষা থেকে শব্দ ধার করার চেয়ে সংস্কৃতমূলক শব্দ সাধারণ মানুষের কাছে অনেক বেশি বোধগম্য হয় ।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সভ্যতার সংকট' প্রবন্ধটি তাঁর জীবনের কততম জন্মদিনে পঠিত হয়েছিল?
- ৭৫তম জন্মদিনে
- ৮১তম জন্মদিনে
- ৭৮তম জন্মদিনে
- ৮০তম জন্মদিনে
সঠিক উত্তর: ৮১তম জন্মদিনে
ব্যাখ্যা: সমাধান সঠিক উত্তর: Option B রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষ প্রবন্ধ হলো 'সভ্যতার সংকট' । ১৩৪৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ কবির ৮১তম জন্মদিনে শান্তিনিকেতনে এটি পঠিত হয়েছিল। তবে অসুস্থতার কারণে কবি নিজে এটি পাঠ করতে পারেননি, তাঁর পক্ষে এটি পাঠ করেছিলেন ক্ষিতিমোহন সেন। এই প্রবন্ধে ব্রিটিশ সভ্যতার শোষণ ও নৃশংসতার বিরুদ্ধে কবি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন । প্রবন্ধটি প্রকাশের অল্প কিছুদিন পরেই ১৩৪৮ বঙ্গাব্দের ২২শে শ্রাবণ কবিগুরুর জীবনাবসান ঘটে ।তাই সঠিক উত্তর হলো ৮১তম জন্মদিনে।
'সভ্যতার সংকট' প্রবন্ধ অনুসারে, 'সিভিলাইজেশন' শব্দের অনুবাদ হিসেবে 'সভ্যতা' ব্যবহার করা হলেও মনু তাকে কী বলেছেন?
- শিষ্টাচার
- ভদ্রতা
- মানবতা
- সদাচার
সঠিক উত্তর: সদাচার
ব্যাখ্যা: সমাধান সঠিক উত্তর: Option D রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সভ্যতার সংকট' প্রবন্ধ অনুসারে, ইংরেজি 'সিভিলাইজেশন' শব্দের বাংলা অনুবাদ হিসেবে 'সভ্যতা' শব্দটি ব্যবহার করা হলেও, আমাদের প্রাচীন ঐতিহ্য ও সমাজে এর আদর্শ রূপকে মহর্ষি মনু 'সদাচার' বলে অভিহিত করেছেন ।মনুর মতে, সদাচার হলো মূলত কতগুলো সামাজিক নিয়মের ঐতিহ্যবাহী বন্ধন । প্রাচীনকালে সরস্বতী ও দৃশদ্বতী নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চল অর্থাৎ ব্রহ্মাবর্তে যে আচরণ বা আচার ঐতিহ্যগতভাবে চলে আসত, তাকেই সদাচার বলা হতো । এই সদাচারের আদর্শই ছিল আমাদের দেশীয় সভ্যতার মূল ভিত্তি ।