সাধারণ জ্ঞান — MCQ ও উত্তর
সাধারণ জ্ঞান · । এই অধ্যায়ে মোট 7062টি প্রশ্ন আছে। নিচে প্রথম 10টি প্রশ্ন ও সঠিক উত্তর দেওয়া হলো।
এই অধ্যায়ে সব প্রশ্নে অনুশীলন করুন
কোনটি স্থানীয় বায়ু ?
- টাইফুন
- হ্যারিকেন
- সাইমুম
- টর্নেডো
সঠিক উত্তর: সাইমুম
ব্যাখ্যা: সমাধান সঠিক উত্তর: Option C - টাইফুন এবং হ্যারিকেন উভয়ই উষ্ণমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় যা মহাসাগরের উপর তৈরি হয় এবং বিস্তৃত এলাকা জুড়ে প্রবাহিত হয়।- টর্নেডো হলো একটি স্থানীয় ঘূর্ণিঝড় যা মেঘ থেকে স্থলে নেমে আসে।- সাইমুম হলো এক ধরণের স্থানীয় বায়ু যা মূলত উত্তর আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের মরুভূমিতে প্রবাহিত হয়।
মৌসুমি বায়ু সৃষ্টির মূল কারণ কি ?
- পৃথিবীর আহ্নিক গতি
- নিয়ত বায়ুর প্রভাব
- সূর্যের উত্তরায়ন ও দক্ষিনায়ন
- বায়ুর চাপের তারতম্য
সঠিক উত্তর: সূর্যের উত্তরায়ন ও দক্ষিনায়ন
ব্যাখ্যা: সমাধান সঠিক উত্তর: Option C মৌসুমি বায়ু দক্ষিণ এশিয়া এবং ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জলবায়ুতে সর্বাপেক্ষা প্রভাব বিস্তারকারী বায়ুপ্রবাহ। গ্রীষ্ম ও শীত মৌসুমে সমুদ্র ও ভূ-পৃষ্ঠের উত্তাপ এবং শীতলতার তারতম্যের ফলে ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মৌসুমি বায়ুপ্রবাহের দিকও পরিবর্তিত হয়। শীত মৌসুমে শুষ্প মৌসুমি বায়ু উত্তর-পূর্ব দিক (ভূভাগ) থেকে সমুদ্র অভিমুখে প্রবাহিত হয় এবং গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ-পশ্চিম (সমুদ্রভাগ) থেকে ভূমি অভিমুখে প্রবাহিত হয়। মৌসুমি বায়ুর ইংরেজি প্রতিশব্দ ‘মনসুন’ (Monsoon) মূলত আরবি শব্দ ‘মাওসিম’ (mawsim) থেকে এসেছে। আরবিতে ‘মাওসিম’ শব্দের অর্থ কাল বা ঋতু। ধারণা করা হয়, এই মৌসুমি বায়ুচক্রটির সূত্রপাত ঘটে ১ কোটি ২০ লক্ষ বৎসর পূর্বে (মধ্য মায়োসিন) হিমালয় পর্বতমালা সৃষ্টির সময় থেকে।
বাতাসে মিথেনের পরিমান কত ?
- ০.০০২%
- ০.০০০২%
- ০.০০০০২%
- ০.০০০০০২%
সঠিক উত্তর: ০.০০০০২%
ব্যাখ্যা: সমাধান সঠিক উত্তর: Option C বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন উপাদানের তালিকা উপাদানের নাম শতকরা হার নাইট্রোজেন (N2) ৭৮.০২ অক্সিজেন (O2) ২০.৭১ আরগন (Ar) ০.৮০ কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) ০.০৩ অন্য গ্যাসসমূহ (নিয়ন, হিলিয়াম, ক্রিপটন, জেনন, ওজোন, মিথেন ও নাইট্রাস অক্সাইড) ০.০২ জলীয়বাষ্প ০.৪১ ধূলিকণা ও কণিকা ০.০১ – মোট ১০০.০০
ব্যারোমিটারের পারদ স্তম্ভের উচ্চতা হঠাৎ হ্রাস পেলে -
- বৃষ্টি হওয়ার আভাস পাওয়া যায়
- ভাল আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাওয়া যায়
- ঝড়ের পূর্বাভাস পাওয়া যায়
- ক্ষনস্থায়ী ভাল আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাওয়া যায়
সঠিক উত্তর: ঝড়ের পূর্বাভাস পাওয়া যায়
ব্যাখ্যা: সমাধান সঠিক উত্তর: Option C ব্যারোমিটার আবিষ্কার করেন বিজ্ঞানী টরেসিলি। যে যন্ত্র দিয়ে বাতাসের চাপ মাপা হয় সে যন্ত্রকে বলা হয় ব্যারোমিটার।ব্যারোমিটারের কাঁটায় সব বোঝা যায়। বাতাসের চাপ কমলে বুঝতে হবে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে এবং বাতাসের চাপ বাড়তে থাকলে আবহাওয়া পরিষ্কার হবে। অ্যাটমোমিটার (Atmometer) - বাষ্পীভবনের হার পাইরোমিটার (Pyrometer) - উচ্চ তাপমাত্রাস্পিডোমিটার (Speedometer) - ধাবমান বস্তুর গতি, বেগস্ফিগোমোম্যানোমিটার (Sphygmomanometer) - রক্ত চাপঅডিওমিটার (Audiometer) - শ্রাব্যতাব্যারোমিটার (Barometer) - বায়ুচাপ গ্যালভানোমিটার (Galvanometer) - বিদ্যুৎহাইগ্রোমিটার (Hygrometer) - আর্দ্রতাল্যাক্টোমিটার (Lactometer) - দুধের আপেক্ষিক গুরুত্ব বা ঘনত্ববলোমিটার (Bolometer) - তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণক্যালোরিমিটার (Calorimeter) - রাসায়নিক বিক্রিয়ার বিক্রিয়া তাপ
ভূ-পৃষ্ঠের নিকটতম বায়ুস্তরকে কি বলে ?
- ট্রাপোস্ফিয়ার
- স্ট্রাটোস্ফিয়ার
- ফটোস্ফিয়ার
- এক্সোস্ফিয়ার
সঠিক উত্তর: ট্রাপোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা: সমাধান সঠিক উত্তর: Option A ট্রপোমণ্ডল (Troposphere): এই স্তরটি বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে নিচের স্তর। মেঘ, বৃষ্টিপাত, বজ্রপাত, বায়ুপ্রবাহ, ঝড়, তুষারপাত, শিশির, কুয়াশা সবকিছুই এই স্তরে সৃষ্টি হয়। ট্রপোমণ্ডলের শেষ প্রান্তে র অংশের নাম ট্রপোবিরতি (Tropopause)। এই স্তর ভূপৃষ্ঠ থেকে নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রায় ১৬-১৮ কিলোমিটার এবং মেরু অঞ্চলে প্রায় ৮-৯ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। ট্রপোমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য(ক) ভূপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বায়ুর ঘনত্ব কমতে থাকে, সঙ্গে সঙ্গে কমতে থাকে উষ্ণতা। সাধারণভাবে প্রতি ১,০০০ মিটার উচ্চতায় ৬০ সেলসিয়াস তাপমাত্রা হ্রাস পায়।(খ) উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে বাতাসের গতিবেগ বেড়ে যায়।(গ) নিচের দিকের বাতাসে জলীয়বাষ্প বেশি থাকে।(ঘ) ধূলিকণার অবস্থানের ফলে সমগ্র বায়ুমণ্ডলের ওজনের প্রায় শতকরা ৭৫ ভাগ এই স্তর বহন করে।(ঙ) আবহাওয়া ও জলবায়ুজনিত যাবতীয় প্রক্রিয়ার বেশিরভাগ এই স্তরে ঘটে থাকে।
বায়ুমন্ডলে জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হওয়ার ফলে দেখা দেয়-
- শিশির
- রোদ
- কুয়াশা
- ক ও গ
সঠিক উত্তর: ক ও গ
ব্যাখ্যা: সমাধান সঠিক উত্তর: Option D শিশির হল কোনো শীতল বস্তুর উপর জলীয় বাষ্প জমা হয়ে সৃষ্ট বিন্দু। একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় বাতাস একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত জলীয় বাষ্প ধারণ করতে পারে। তাপমাত্রা বাড়লে যেমন ধারনক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, তেমনি তাপমাত্রা কমলে ধারনক্ষমতা হ্রাস পায়।কুয়াশা হল ভূমির সংস্পর্শে জলকণা রূপে থাকা ঘনীভূত বাষ্প । মেঘ কেও আংশিকভাবে কুয়াশা বিবেচনা করা যায় তবে তা কেবল ভূপৃষ্ঠের সন্নিকটে থাকা বাস্পের জন্যই প্রযোজ্য । সাধারনত ভূপৃষ্ঠ সূর্য থেকে প্রাপ্ত তাপ রাতে ত্যাগ করে। এই সময়ে দিনের তপ্ত ও রাতের শীতল আবহাওয়ার মধ্যকার সংঘর্ষে বাস্প ঘনীভূত হয়। আর এর ফলেই প্রায় ০.০১ মিলিমিটার ব্যাসের জল কণার সৃষ্টি হয়।
বাংলাদেশের সুন্দরবনে কতো প্রজাতির হরিণ দেখা যায়?
- ১
- ২
- ৩
- ৪
সঠিক উত্তর: ২
ব্যাখ্যা: সমাধান সঠিক উত্তর: Option B হরিণ Artiodactyla বর্গের Cervidae গোত্রের রোমন্থক একদল স্তন্যপায়ী। গোত্রের সব সদস্যই স্বভাব ও গড়নের দিক থেকে প্রায় অভিন্ন। পুরুষ হরিণের মাথায় থাকে এক জোড়া শিং। এগুলি প্রথমে কোমল ভেলভেট-এর মতো রোমশ চামড়া দিয়ে ঢাকা থাকে এবং পরে পরিণত বয়সে চামড়া শুকিয়ে যায় ও এক সময় খসে পড়ে। বাংলাদেশের কয়েক প্রজাতির হরিণের মধ্যে সাম্বার (Cervus unicolar) বৃহত্তম এবং চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেটের বনে বাস করে। সবচেয়ে সুন্দর ও পরিচিত প্রজাতি হলো চিত্রা হরিণ (C. axis)। এর হলুদ, হালকা বা গাঢ় বাদামি পিঠ জুড়ে থাকে সাদা রঙের গোল গোল ফোঁটা। এদের আবাস প্রধানত সুন্দরবন। এক সময় সিলেটের বনাঞ্চলে নাত্রিনি হরিণ (hog deer, C. porcinus) দেখা গেলেও বাংলাদেশে এটি এখন আর টিকে নেই। মায়াহরিণ (Muntiacus muntjac) আকারে সবচেয়ে ছোট। সুন্দরবনের চিত্রা হরিণ ছাড়া বাংলাদেশের অন্য সবগুলি হরিণের সংখ্যা মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে। যদৃচ্ছা শিকার, মানুষের হস্তক্ষেপ ও আবাসভূমি ধ্বংসের জন্য বনের এসব সুদর্শন প্রাণী আজ বিপন্ন। বারশিঙা (C. duvanceli) এদেশে এখন আর নেই। বাংলাদেশে মোট ৫ প্রজাতির হরিণের রেকর্ড আছে। এদের মধ্যে দুই প্রজাতির হরিণ (হগ ডিয়ার ও সোয়াম্প ডিয়ার) বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বাকী তিন প্রজাতির মধ্যে প্রায় হারিয়ে যাওয়ার পথে বারকিং ডিয়ার ও সাম্বার ডিয়ার। এদের এখন সিলেটের গভীর বন ও কাপ্তাই, পার্বত্য চট্টগ্রাম, এবং বান্দারবন এলাকায় কালেভদ্রে পাওয়া যায়। স্পটেড ডিয়ার বা চিত্র হরিণ এদেশে অন্যান্য হরিণের চেয়ে এখনও বেশ ভাল আছে। শুধু সুন্দরবনেই বন বিভাগের তথ্যমতে চিত্রা হরিণের সংখ্যা ৫০-৮০ হাজার। চট্টগ্রাম পাহাড়ী এলাকা, মধুপুর বন ও সিলেটের গভীর বনে হাতে গোনা কিছু চিত্রা হরিণ থাকতে পারে। সর্বশেষ সরকার হরিণ সংকট মোকাবেলায় নিঝুম দ্বীপে হরিণ ছাড়ে। এ বনে হরিণের খাবার সংকট ও প্রিডেটর সমস্যা না থাকায় মাত্র এক যুগেই হরিণ বেড়ে প্রায় বিশ হাজার। যথাযথ গবেষণা ও পর্যাপ্ত খাবারের অভাবে বর্তমানে হরিণ এখানেও একধরণের সংকটে চলছে।
স্থায়ী খরতা দূর করা যায়?
- ফুটানোর মাধ্যমে
- চুন যোগ করে
- সোডিয়াম কার্বনেট যোগ করে
- ফিল্টার করে
সঠিক উত্তর: সোডিয়াম কার্বনেট যোগ করে
ব্যাখ্যা: সমাধান সঠিক উত্তর: Option C স্থায়ী খরতা দূর করার জন্য সোডিয়াম কার্বনেট (Na₂CO₃) ব্যবহার: - স্থায়ী খরতা Ca²⁺ ও Mg²⁺ লবণের কারণে হয়- Na₂CO₃ এই আয়নগুলোর সাথে বিক্রিয়া করে অদ্রবণীয় কার্বনেট তৈরি করে- ফুটানোর মাধ্যমে শুধু অস্থায়ী খরতা দূর করা যায়- চুন যোগে অস্থায়ী খরতা দূর হয়
বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতিতে কয়টি অঙ্ক ব্যবহৃত হয়?
- একটি
- দুইটি
- তিনটি
- চারটি
সঠিক উত্তর: দুইটি
ব্যাখ্যা: সমাধান সঠিক উত্তর: Option B
সংক্ষিপ্ত পথে চলতে হলে জাহাজ চালককে কি অনুসরন করতে হবে?
- সমুদ্র স্রোত
- ধ্রুব নক্ষত্র
- বায়ূ প্রবাহের দিক
- অক্ষাংশ
সঠিক উত্তর: সমুদ্র স্রোত
ব্যাখ্যা: সমাধান সঠিক উত্তর: Option A সমুদ্রের পানি একটি নির্দিষ্ট গতিপথ অনুসরণ করে চলাচল করে, একে সমুদ্রস্রোত বলে ।সমুদ্রস্রোতের প্রধান কারণসমূহ হলোঃ - নিয়ত বায়ুপ্রবাহ, - পৃথিবীর আহ্নিক গতি প্রভৃতি। স্বল্পতম সময়ে ও সংক্ষিপ্ত পথে জাহাজ চালাতে নাবিকেরা সমুদ্রস্রোত অনুসরণ করেন। স্রোতের অনুকূলে জাহাজ চালিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে গন্তব্য বন্দরে পৌঁছানো যায়। সমুদ্রস্রোতকে উষ্ণতার তারতম্য অনুসারে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- উষ্ণ স্রোত এবং শীতল স্রোত। নিরক্ষীয় অঞ্চলে তাপমাত্রা বেশি হওয়ায় জলরাশি হালকা হয় ও হালকা জলরাশি সমুদ্রের উপরিভাগ দিয়ে পৃষ্ঠপ্রবাহরূপে বা বহিঃস্রোতরূপে শীতল মেরু অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়। এরূপ স্রোতকে উষ্ণ স্রোত বলে । অন্যদিকে মেরু অঞ্চলের শীতল ও ভারী জলরাশি জলের নিচের অংশ দিয়ে অন্তঃপ্রবাহরূপে বা অন্তঃস্রোতরূপে নিরক্ষীয় উষ্ণমণ্ডলের দিকে প্রবাহিত হয়। এরূপ স্রোতকে শীতল স্রোত বলে । শীতল সমুদ্রস্রোত অপেক্ষা উষ্ণ সমুদ্রস্রোতে জাহাজ ও নৌ-চলাচলের সুবিধা বেশি।