Eduversity.bd — Learn with Us, Achieve Your Dreams

৪৯তম বিসিএস - ইতিহাস — MCQ ও উত্তর

বিসিএস বিষয়ভিত্তিক (৪৯তম) · । এই অধ্যায়ে মোট 1715টি প্রশ্ন আছে। নিচে প্রথম 10টি প্রশ্ন ও সঠিক উত্তর দেওয়া হলো।

এই অধ্যায়ে সব প্রশ্নে অনুশীলন করুন

  1. বাংলার সর্ব প্রাচীন জনপদের নাম কি?

    1. পুন্ড্র
    2. তাম্রলিপ্ত
    3. গৌড়
    4. হরিকেল

    সঠিক উত্তর: পুন্ড্র

    ব্যাখ্যা: সমাধান সঠিক উত্তর: Option A ∎বাংলার সর্ব প্রাচীন জনপদের নাম-পুন্ড্র। বগুড়া জেলার অন্তর্গত পুন্ড্রনগর-যা বর্তমানে মহাস্থানগড় নামে পরিচিত।

  2. প্রাচীনকালে ‘সমতট’ বলতে বাংলাদেশের কোন অংশকে বুঝানো হতো?

    1. বগুড়া ও দিনাজপুর অঞ্চল
    2. কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চল
    3. ঢাকা ও ময়মনসিংহ অঞ্চল
    4. বৃহত্তর সিলেট অঞ্চল ।

    সঠিক উত্তর: কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চল

    ব্যাখ্যা: সমাধান সঠিক উত্তর: Option B পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় বঙ্গের প্রতিবেশী জনপদ হিসেবে ছিল সমতটের অবস্থান। এ অঞ্চলটি ছিল আর্দ্র নিম্নভূমি। কেহ কেহ মনে করেন সমতট বর্তমান কুমিলার প্রাচীন নাম। আবার কেহ মনে করেন, কুমিলা ও নোয়াখালী অঞ্চল নিয়ে সমতট গঠিত হয়েছিল। সাত শতক থেকে বারো শতক পর্যন্ত বর্তমান ত্রিপুরা জেলা ছিল সমতটের অন্যতম অংশ। এক সময় এ জনপদেরপশ্চিম সীমা চব্বিশ পরগনার খাড়ি পরগনা পর্যন্ত বিস্তৃতছিল। গঙ্গা-ভাগীরথীর পূর্ব তীর থেকে শুরু করে মেঘনার মোহনা পর্যন্ত সমুদকূলবর্তী অঞ্চলকেই সম্ভবত বলা হতো সমতট। কুমিলা শহরের ১২ মাইল পশ্চিমে বড় কামতা নামক স্থানটি সাত শতকে এর রাজধানী ছিল।

  3. প্রাচীন রাঢ় জনপদ অবস্থিত---

    1. বগুরা
    2. কুমিল্লা
    3. বর্ধমান
    4. বরিশাল

    সঠিক উত্তর: বর্ধমান

    ব্যাখ্যা: সমাধান সঠিক উত্তর: Option C • ভাগীরথী নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত অঞ্চলকে রাঢ় বলা হয়। • পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলা, বর্ধমান জেলার মধ্যভাগ, বাঁকুড়া জেলার পূর্ব ও দক্ষিণপূর্ব ভাগ ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পশ্চিমভাগ রাঢ়ের অন্তর্গত। • এছাড়া প্রেসিডেন্সি বিভাগের মুর্শিদাবাদ জেলার কান্দি মহকুমার অংশবিশেষ ও হুগলি জেলার সামান্য অংশ রাঢ়ের অন্তর্গত। • এর সীমানা পশ্চিমে ছোটনাগপুর মালভূমির প্রান্তভাগ থেকে পূর্বে গাঙ্গেয় বদ্বীপ অঞ্চলের পশ্চিম সীমানা পর্যন্ত বিস্তৃত। • এই অঞ্চল ঈষৎ ঢেউ খেলানো ও এর ঢাল পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে।

  4. প্রাচীন বাংলায় নিম্নের কোন অঞ্চল বাংলাদেশের পুর্বাংশে অবস্থিত ছিল?

    1. হরিকেল
    2. সমতট
    3. বরেন্দ্র
    4. রাঢ়

    সঠিক উত্তর: হরিকেল

    ব্যাখ্যা: সমাধান সঠিক উত্তর: Option A প্রাচীন বাংলা কতগুলো অঞ্চল বা জনপদে বিভক্ত ছিলো। এর মধ্যে হরিকেল জনপদ ছিলো অন্যতম। হরিকেল জনপদ সিলেট থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো।- বঙ্গ জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিলো বৃহত্তর ফরিদপুর, বিক্রমপুর, বাখেরগঞ্জ ও পটুয়াখালীর নিচু জলাভূমি।- সমতট জনপদ বর্তমান বৃহত্তর নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত ছিলো।- রাঢ় জনপদের অবস্থান ছিলো বর্তমান পশ্চিমবঙ্গে।সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী

  5. বরেন্দ্র বলতে কোন এলাকাকে বুঝায়?

    1. উত্তরবঙ্গ
    2. পশ্চিমবঙ্গ
    3. উত্তর-পশ্চিমবঙ্গ
    4. দক্ষিন-পুর্ববঙ্গ

    সঠিক উত্তর: উত্তর-পশ্চিমবঙ্গ

    ব্যাখ্যা: সমাধান সঠিক উত্তর: Option C - বরেন্দ্র ও পুণ্ড্রবর্ধন উত্তরবঙ্গের একটি জনপদ।- ঐতিহাসিকেদের মতে− বর্তমান রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর, বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর এবং পশ্চিমবঙ্গের মালদহ ও মুর্শিদাবাদের কিছু অংশ এবং দার্জিলিং ও কোচবিহারসহ গঠিত সমগ্র অঞ্চল বরেন্দ্র এলাকা।- সন্ধ্যাকর নন্দীর 'রামচরিত-কাব্য'-এ গঙ্গা ও করতোয়া নদীর মধ্যভাগকে বরেন্দ্রী নামে অভিহিত করা হয়েছে। - আ, কা, ম, যাকারিয়া কর্তৃক সম্পাদিত বরেন্দ্র অঞ্চলের ইতিহাস নামক পুস্তকে সমগ্র রাজশাহী বিভাগকেই বরেন্দ্র অঞ্চল নামে অভিহিত করা হয়েছে।- এই বিচারে বৃহত্তর দিনাজপুর, মালদহ, রংপুর, বগুড়া এবং পাবনা জেলা - এই পাঁচটি জেলাকেই বরেন্দ্র অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

  6. চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রাচীন নাম -

    1. রাঢ়
    2. বঙ্গ
    3. হরিকেল
    4. পুণ্ড্র

    সঠিক উত্তর: হরিকেল

    ব্যাখ্যা: সমাধান সঠিক উত্তর: Option C - প্রাচীন পূর্ববঙ্গের একটি জনপদ। বর্তমান চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও ত্রিপুরার এবং তৎসংলগ্ন এলাকা হরিকলের অংশ ছিল বলে অনুমান করা হয়।- খ্রিষ্টীয় সপ্তম শতাব্দীর প্রাচীন ভারতীয় লেখকগণ পূর্বভারতীয় প্রান্তীয় অংশ অবস্থিত জনপদকে হরিকেলের নামে উল্লেখ করেছেন।

  7. প্রাচীন কালে সমতট বলতে বাংলাদেশের কোন অংশকে বুঝানো হত?

    1. বগুড়া ও দিনাজপুর অঞ্চল
    2. কুমিল্লা ও নোয়াখালি অঞ্চল
    3. ঢাকা ও ময়মনসিংহ
    4. বৃহত্তম সিলেট অঞ্চল

    সঠিক উত্তর: কুমিল্লা ও নোয়াখালি অঞ্চল

    ব্যাখ্যা: সমাধান সঠিক উত্তর: Option B মেঘনা পূর্ববর্তী এলাকায় কুমিল্লা-নোয়াখালীর সমতল অঞ্চলে ছিল সমতটের অবস্থান। পূর্বদিকে সংলগ্ন ত্রিপুরার পাহাড়ি অঞ্চল (সমতটের অটবি-খন্ড বিভাগ) এবং দক্ষিণে মেঘনার মোহনায় দ্বীপাঞ্চলও এর অন্তর্ভুক্ত ছিল। মোটামুটিভাবে উত্তরে সিলেট সীমান্তের পর্বত ও হাওর থেকে দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত এবং পূর্বদিকে ত্রিপুরা ও আরাকানের পাহাড়ি উঁচুভূমি থেকে পশ্চিমে মেঘনা (পদ্মা-মেঘনা-ব্রহ্মপুত্রের সম্মিলিত স্রোতধারা) পর্যন্ত এর বিস্তৃতি।

  8. সমতট জনপদ কোথায় অবস্থিত?

    1. রংপুর অঞ্চল
    2. খুলনা অঞ্চল
    3. সিলেট অঞ্চল
    4. কুমিল্লা অঞ্চল

    সঠিক উত্তর: কুমিল্লা অঞ্চল

    ব্যাখ্যা: সমাধান সঠিক উত্তর: Option D মেঘনা পূর্ববর্তী এলাকায় কুমিল্লা-নোয়াখালীর সমতল অঞ্চলে ছিল সমতটের অবস্থান। পূর্বদিকে সংলগ্ন ত্রিপুরার পাহাড়ি অঞ্চল (সমতটের অটবি-খন্ড বিভাগ)এবং দক্ষিণে মেঘনার মোহনায় দ্বীপাঞ্চলও এর অন্তর্ভুক্ত ছিল। মোটামুটিভাবে উত্তরে সিলেট সীমান্তের পর্বত ও হাওর থেকে দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত এবং পূর্বদিকে ত্রিপুরা ও আরাকানের পাহাড়ি উঁচুভূমি থেকে পশ্চিমে মেঘনা (পদ্মা-মেঘনা-ব্রহ্মপুত্রের সম্মিলিত স্রোতধারা) পর্যন্ত এর বিস্তৃতি।

  9. ঢাকা জেলা প্রাচীন কালে কোন জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল?

    1. সমতট
    2. পুন্দ্র
    3. বঙ্গ
    4. হরিকেল

    সঠিক উত্তর: বঙ্গ

    ব্যাখ্যা: সমাধান সঠিক উত্তর: Option C বঙ্গ একটি অতি প্রাচীন জনপদ। অতি প্রাচীন পুঁথিতে একে মগধ ও কলিঙ্গজনপদের প্রতিবেশী বলা হয়েছে। মহাভারতের উল্লেখ হতে বুঝা যায় যে, বঙ্গ, পুন্ড, তামলিপ্ত ও সুহ্মের সংলগ দেশ। চন্দগুপ্ত, বিক্রমাদিত্য, চালুক্যরাজা ও রাষ্টকূটদের শিলালিপি এবং কালিদাসের গ্রন্থে এ জনপদের বর্ণনা পাওয়াযায়। বর্তমান বাংলাদেশের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বঙ্গ নামে একটি জনপদগড়ে উঠেছিল। অনুমান করা হয়, এখানে ‘বঙ্গ’ নামে এক জাতি বাস করত। তাই জনপদটি পরিচিত হয় ‘বঙ্গ’ নামে। সাক্ষ্য প্রমাণ থেকে মনে হয়, গঙ্গা ও ভাগিরথীর মাঝখানের অঞ্চলকেই বঙ্গ বলা হতো। পাল ও সেন বংশীয় রাজাদের আমলেবঙ্গের আয়তন সঙ্কচিত হয়ে পড়ে। একাদশ শতকে পাল বংশের শেষ পর্যায়ে বঙ্গজনপদ দুভাগে বিভক্ত হয়ে উত্তর বঙ্গ ও দক্ষিণ বঙ্গ নামে পরিচিত হয়। পদ্মাছিল উত্তরাঞ্চলের উত্তর সীমা, দক্ষিণের বদ্বীপ অঞ্চল ছিল দক্ষিণ বঙ্গ।পরবর্তীকালে কেশব সেন ও বিশরূপ সেনের আমলেও বঙ্গের দুটি ভাগ পরিলক্ষিত হয়।তবে এবার নাম আলাদ একটি ‘বিক্রমপুর’ ও অপরটি ‘নাব্য’। প্রাচীন শিলালিপিতে ‘বিক্রমপুর’ ও ‘নাব্য’ না

  10. ৬টি জনপদকে একত্রিত করে 'বাঙ্গালাহ' নামকরণ করেন কে?

    1. ফকরুদ্দিন মুবারক শাহ
    2. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
    3. আকবর
    4. ঈশা খান

    সঠিক উত্তর: শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ

    ব্যাখ্যা: সমাধান সঠিক উত্তর: Option B মধ্যযুগীয় বাংলার সুলতানদের মধ্যে এক বিশিষ্ট স্থানের অধিকারী ইলিয়াস শাহী বংশের প্রতিষ্ঠাতা শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ বাংলার স্বাধীন সালতানাতকে সুদৃঢ় করেন। জাতি গঠনকারী হিসেবে ইলিয়াস শাহ-ই প্রথম যিনি সাতগাঁও, লখনৌতি ও সোনারগাঁ অঞ্চলকে একত্রিত করে স্বাধীন সালতানাত প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি এ সম্মিলিত রাজ্যের নামকরণ করেন বাঙ্গালাহ এবং এর অধিবাসীদের অভিহিত করেন বাঙালি নামে। - ‘বাংলা' নামের উৎপত্তি ঃ বঙ্গ ধাতু থেকে। - 'বঙ্গ' নামের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় ঃ হিন্দু ধর্মের 'ঐতরেয় আরণ্যক' গ্রন্থে। এটি ঋগ্বেদ এর অংশ। - সর্বপ্রথম দেশবাচক 'বঙ্গ' নামের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় ঃ আবুল ফজলের 'আইন-ই-আকবরী' গ্রন্থে (আবুল ফজল ছিলেন সম্রাট আকবরের সভাষদ)। তিনি 'বাংলা' নামের উৎপত্তি সম্পর্কে দেখান, এদেশের প্রাচীন নাম 'বঙ্গ' এর সাথে বাধঁ বা জমির সীমানা সূচক 'আল' যোগে 'বাংলা' শব্দ গঠিত হয়। - প্রথম বিদেশি পর্যটক হিসবে 'বাঙ্গালা' শব্দের ব্যাবহার করেন ঃ ইবনে বতুতা।

← আগের অধ্যায়পরের অধ্যায় →